BDLove99.Com
HomeBangla Newsভেস্তে গেল কেন সৌদির ‘মুসলিম মোড়ল’ স্বপ্ন?, তোপের মুখে মোহাম্মদ বিন সালমান

New নাটক, মুভি,গান ভিডিও ডাউনলোড করুন খুব সহজেই

ভেস্তে গেল কেন সৌদির ‘মুসলিম মোড়ল’ স্বপ্ন?, তোপের মুখে মোহাম্মদ বিন সালমান

saudi-arabia-prince-mohammad-bin-salman_36067_1483819559

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- আরব বিশ্ব ও অন্য ইসলামী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নিজেকে প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সৌদি আরব প্রায় অর্ধ-শতক ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মাত্র দুই বছর আগেও মনে হয়েছিল রিয়াদ এ লক্ষ্যে সফল হতে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের পাঠানো একটি প্রতিবেদন যেটা ২০১৪ সালে উইকিলিকস প্রকাশ করে তাতে বলা হয়, সৌদি আরব ও কাতার এক অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মুসলিম বিশ্বের নেতা হওয়ার লক্ষ্যে লড়ছে।
এর এক বছর পর ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে জার্মানির বৈদেশিক গোয়েন্দা শাখা বিএনডি সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ব্যাপারে বেশ শংকিত হয়ে পড়ে। তখন তারা জার্মান সরকারের কাছে এক সতর্কবার্তা পাঠায় এই বলে যে, রাজপরিবারের পুরনো নেতৃস্থানীয় সদস্যদের নীতিতে পরিবর্তন আসছে। তারা আগের সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান ত্যাগ করে হস্তক্ষেপের নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এমন বার্তায় জার্মান সরকার বেশ বিব্রত হয়ে পড়ে এবং বিএনডিকে এ বক্তব্য প্রত্যাহার করতে চাপ দেয়। কিন্তু গত এক বছরের আক্রমণাত্মক সৌদিনীতির অস্থির প্রভাব সম্পর্কে গোয়েন্দারা যে আশংকা করেছিলেন তাই সত্যে পরিণত হয়েছে। তবে সৌদি আরব যত দ্রুত মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বে আসার উচ্চাশা নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল তত দ্রুতই মার খেয়েছে বা হতাশ হয়েছে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে উৎখাত করার জন্য দেশটির গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু গত বছর সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে সৌদি জোট ব্যাপকভাবে পরাজিত হয়।
অপরদিকে ইয়েমেনে বিশাল ব্যয়বহুল সামরিক আয়োজন নিয়ে সরাসরি যুদ্ধে গিয়েও সৌদি আরব বিজয় অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের বর্ধিষ্ণু প্রভাবের বিপরীতে অধিক শক্তিশালী হস্তক্ষেপমূলক নীতি গ্রহণ করেও ঠিক বিপরীতটাই ঘটেছে সৌদি আরবের ক্ষেত্রে। ওপেকের গত বৈঠকে সৌদি আরব তেল উৎপাদন কমাতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু ইরান উৎপাদন আরও বাড়িয়েছে।
সৌদি রাজপরিবারের নিরাপত্তার শেষ আশ্রয় যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি আরবের প্রতি বিদ্বেষ ক্রমেই বাড়ছে। ৯/১১ হামলার ব্যাপারে কংগ্রেসের এক বিলে সৌদিকে দায়ী করা হয়েছে। বিলে বলা হয়, ৯/১১ হামলায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের পরিবার হামলার জন্য দায়ী সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে।
২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি ৮০ বছর বয়সী সালমান বিন আবদুল্লাহ সৌদির বাদশা হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানকে ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন তিনি। সৌদি আরবের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি মোহাম্মদ বিন সালমানের অধীনে সৌদির বিদেশনীতি আরও সামরিকীকৃত ও জাতীয়তাবাদীতে পরিণত হয়। এর পর একদিকে ইয়েমেন শুরু হয় সামরিক আগ্রাসন।
অন্যদিকে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে বাশারবিরোধী জোটের জবহাত আল-নুসরাকে রসদ জোগাতে থাকে সৌদি। কিন্তু ইয়েমেন ও সিরিয়াতে সৌদি আরবের জন্য কোনো কিছুই ভালো ফল নিয়ে আসেনি। সৌদি বাহিনীর মাধ্যমে স্পষ্টত খুব সহজেই ইয়েমেনের হুথি বাহিনীকে পরাজিত করবে বলে আশা করেছিল রিয়াদ। কিন্তু ১৫ মাস চলে যাওয়ার পরও হুথি এবং তার মিত্র সাবেক প্রেসিডেন্ট সালেহ রাজধানী সানা ও উত্তর ইয়েমেন এখনও নিজেদের দখলে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সিরিয়ায় যুদ্ধে সৌদির সঙ্গে আরও যোগ দেয় কাতার। তাদের বিশ্বাস ছিল তারা বাশার আল আসাদকে পরাজিত করবে। কিন্তু সিরিয়ায়ও সৌদি জোট ব্যর্থ হয়েছে। উভয় যুদ্ধে এ ব্যর্থতার জন্য যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এখন তোপের মুখে। যুগান্তর

About Author (1217) 354 Views

Related Posts

[X Close Ads বিঙ্গাপন কাটুন]
Loading...